বরবটি চাষ পদ্ধতি

সঠিক বরবটি চাষ পদ্ধতি জেনে নিন!

বরবটি চাষ পদ্ধতি : বরবটি আমাদের অতি পরিচিত একটি সবজি । এটি একটি আমিষ সমৃদ্ধিয় সবজি।  বরবটি আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই চাষ করা হয়।  তবে এটির ফলন গ্রীষ্ম মৌসুমে ভালো হয় । 

শীত মৌসুমে গাছের বৃদ্ধি কম হয় বিধায় আাশানুরুপ ফলন পাওয়া যায় না। বরবটি চাষ পদ্ধতি খুব কঠিন নয়। অল্প বিস্তরে বাসা-বাড়িতেও বরবটি চাষ করা যায়। 

বরবটি চাষ পদ্ধতি

বরবটি জাত নির্বাচন

বর্তমান আমাদের দেশে অনেক হাইব্রিড জাত এসেছে। কেগরনাটকী,   লাল বেনি, তকি, ১০৭০,  বনলতা , ঘৃতসুন্দরী,  গ্রীন লং,  গ্রীন ফসল এফ১,  সামুরাই এফ১ ইত্যাদি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য  জাত।  কেগরাটকী জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয়ে থাকে। উপরে উল্লেখিত জাতগুলোর মধ্যে  লাল বেনি এবং কেগরনাটকি  জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি।  তবে ঘৃতসুন্দরী বেশী বিখ্যাত তার স্বাদের জন্য। 

বরবটি চাষের মৌসুম

গ্রীষ্ম মৌসুমে বরবটির উৎপাদন বেশী ভালো হয়। বরবটি চাষের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে বৈশাখ-জৈষ্ঠ। এছাড়াও  আশ্বিন-অগ্রহায়ণ  মাসেও বরবটির বীজ বপন করা হয়। ভেন্ডী বা ঢেঁড়স চাষ পদ্ধতি জেনে নিন!

মাটি নির্বাচন ও জমি প্রস্তুত

বরবটি সব ধরনের মাটিতে  জন্মায়। তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি বরবটি চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। 

বরবটি চষের জন্য প্রয়োজন আগাছা মুক্ত ঝুরঝুরে মাটি । জমিতে ৪-৫ টি চাষ দিয়ে নিতে হবে। পরবর্তীতে মই দিয়ে বেড ও মাডা তৈরি করতে হবে।

বীজ বপন

বীজ বপনের ক্ষেত্রে  খেয়াল রাখতে হবে  প্রতিটি  বেড এর দুরত্ব হবে  ১-২ মিটার  এবং প্রতিটি  মাডা এর দুরত্ব হবে ৫০-৭০ সেন্টিমিটার।  প্রতিটি বীজ এর দুরত্ব হবে ১৫-২০  সেন্টিমিটার।  এ সময় পলি ব্যাগে কিছু বীজ বপন করে রাখা হয়। পরবর্তীতে যে সমস্ত স্থানে চারা গজাবে না সেখানে পরবর্তীতে উক্ত চারা রোপন করা হয়। 

এবং বীজ বপনের পূর্বে অবশ্যই বীজ শোধন করে নিতে হবে। ভিটাভেক্স ২.৫ গ্রাম বা ব্যাভিষ্টিন ২ গ্রাম অথবা ট্রাইকোডারমা  ভিড়িডি ৩-৪ গ্রাম  প্রতি কেজি বীজের জন্য  শোধক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে । গরুর কোন রোগের কি ঔষধ জেনে নিন!

বীজ এর পরিমাণ

প্রতি শতকে বীজ প্রয়োজন হয় ১০০-১২৫  গ্রাম  এবং  হেক্টর প্রতি  ৮-১০  কেজি। আশানুরূপ ফলনের জন্য অবশ্যই রোগ মুক্ত বীজ সংগ্রহ করতে হবে । 

সার প্রয়োগ

বরবটি চাষ পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রয়োজনীয় পরিমাণে সার প্রয়োগ। সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করতে পারলে উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। সার প্রয়োগের পরিমান – 

ইউরিয়া –  প্রতি শতকে  ১০০  গ্রাম  এবং  প্রতি হেক্টরে  ২৫০ কেজি । 

টি এস পি –  প্রতি শতকে  ৯০  গ্রাম  এবং  প্রতি  হেক্টরে  ২২৫ কেজি । 

এমওপি –  প্রতি শতকে  ৭৫  গ্রাম   এবং প্রতি হেক্টরে   ১৮৫  কেজি । 

গোবর –  প্রতি শতকে  ২০ কেজি  এবং প্রতি হেক্টরে  ৫  টন । 

সেচ ও পানি নিষ্কাশন

জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে । সেচের পানি জমিতে নালার মধ্য দিয়ে প্রবাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেচ দেওয়ার সময় লক্ষ রাখতে হবে যাতে করে সেচের পানি বেড এর উপরে উঠে না যায়।  

বরবটি চাষ পদ্ধতি এর অন্যতম প্রয়োজনীয় কাজ হচ্ছে জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা । কেননা,  যদি বর্ষার  সময় জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তাহলে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কি গোড়া পচে গাছ  মারাও যেতে পারে । 

পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ 

বরবটি চারা বড় হলে মাচা তৈরি করে দিতে হবে । গাছ মাচায় ওঠার জন্য মাচা ও গাছের মধ্যে পাটকাঠি বা অন্য কোনো দন্ড দিয়ে সংযোগ দিতে হবে। জমিতে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে । বরবটি গাছ কোন প্রকার রোগবালাই কিংবা পোকামাকড়ের উপদ্রব হলো কিনা লক্ষ রাখতে হবে । 

রোগবালাই ও প্রতিকার 

বরবটি চাষ পদ্ধতির  অন্যতম প্রতিকূলতা হলো, বিভিন্ন পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন ধরনের রোগ ।  জাব পোকা,  ফল ছিদ্রকারী পোকা, বিছা  ইত্যাদি বরবটি প্রধানত ক্ষতিকর কীট ।  এনথ্রাকনোজ রোগ ,  পাতায় দাগ রোগ,  গাছের কান্ড ও গোড়া পচা রোগ ইত্যাদি বরবটি গাছের রোগ হয়ে থাকে । 

 উক্ত রোগ-বালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ হতে গাছকে রক্ষা করতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। এসব উপকরন যেকোন কীটনাশক দোকানে পাওয়া যাবে।

ফসল সংগ্রহ ও ফলন

বীজ বপনের ৫০-৬০ দিন পর থেকে বরবটি সংগ্রহ  করা যায় ।  বরবটির ফলন শতক প্রতি ৩০-৬০ কেজি এবং প্রতি হেক্টরে  ১০-১২ টন।

বরবটির পুষ্টিগুণ

বরবটিতে এমন কিছু পুষ্টি গুন বিদ্যমান যা , ওজন হ্রাস করতে সাহায্যকরে , হজমে সাহায্য করে , ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করতে সগায়তা করে । এবং এটি অতীব স্বাদযুক্ত যা খাবার মেনু কে করে আকর্ষণীয়। 

উপসংহার 

বরবটি চাষ পদ্ধতির  যে সকল তথ্য প্রদান করা হয়েছে তা বাংলাদেশ কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক বিশেষায়িত। সুতরাং উক্ত চাষ পদ্ধতি অনুসরন করলে ইনশাআল্লাহ সফলতা পাওয়া যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top