ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ

ব্লাড ক্যান্সার কেন হয়? ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ জেনে নিন!

ক্যান্সারের কথা শুনলেই কেমন যেন একটা ভীতির সৃষ্টি হয়। মনের আতংকের তৈরি হয়। কেননা ক্যান্সার রোগীর বেঁচে থাকাটাই হুমকির মুখে পড়ে। তবে বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার কল্যাণে ক্যান্সার মোকাবিলা সম্ভব হয়। তাই ব্লাড ক্যান্সার থেকে শুরু করে যেকোনো ক্যান্সারই হোক না কেন  চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া যায়।  

যাবতীয় সকল ক্যান্সারের মতো ব্লাড ক্যান্সারও বেশ আতংকের। আমরা মূলত লিউকেমিয়া কে ব্লাড ক্যান্সার বলে থাকি। এটি হলো রক্ত কোষের ক্যান্সার। বিষেশত শ্বেত রক্ত  কনিকার ক্যান্সার। ব্লাড ক্যান্সার বা রক্তের ক্যান্সার নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত। সময়ের সাথে সাথে এ রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি পাল্টেছে এবং অনেক উন্নতিও ঘটেছে। 

আজকে আমরা ব্লাড ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ কি কি ?

ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ –

ব্লাড ক্যান্সারের কিছু সাধারণ উপস্বর্গ আছে। যেমন:-

  • দীর্ঘদিন ধরে  জ্বর, 
  • রক্তশূন্যতা, 
  • ত্বকে লাল র‍্যাস, 
  • হাড়ে ব্যথা, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত বের হওয়া, 
  • বারবার সংক্রমিত হওয়া, 
  • স্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা, 
  • বুক ধরফর করা, 
  • অরুচি,
  • ক্ষিদে না পাওয়া, 
  • ওজন কমে যাওয়া, 
  • রাতে ধামা,  
  • বমি বমি ভাব, 
  • গায়ে কালো কালো দাগ, 
  • মাথা ব্যথা, 
  • তল পেটে অস্বস্তি, 
  • শ্বাস কষ্ট, 
  • খসখসে চামড়া এবং ফুসকুড়ি,
  • ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, 
  • প্লীহা ও লিভার বড় হওয়া, 
  • গ্লান্ড ফুলে যাওয়া  ইত্যাদি।

>> ব্লাড ইনফেকশন কেন হয় জেনে নিন!

সাধারণ এসব উপসর্গ নিয়ে  প্রাথমিক অবস্থায় প্রকাশ পায় ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া। 

এই সমস্ত  সাধারন উপসর্গ ছাড়াও আরও কিছু ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষনসমূহ রয়েছে। যেমন:-

  • ব্লাড ক্যান্সারের ফলে শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এবং জ্বর, স্বর্দি, কাশি, লেগেই থাকে। এভাবে জ্বর স্বর্দি চলতে থাকলে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 
  • শরীরের কোথাও আচমকা গ্লান্ড ফুলে যাওয়া ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। এটি লিম্ফেটিক সিস্টেম পরিবর্তনের ইংগিত দেয়। 
  • বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পেটব্যথা লক্ষ্য করা যায়। 
  • আঘাত ছাড়াই শরীরে কালশিটে দাগ দেখা দিলে সেটা লিউকেমিয়া রোগের লক্ষণ। মুখে, ঘাড়ে, বুকে লাল দাগ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 
  • কাশি ও ব্রংকাইটিস দুটোই দীর্ঘদিন না সারলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ এ দুটোই ফুসফুসের ক্যান্সার এবং ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। 
  • খুব বেশি দিন ধরে শ্বাস কষ্ট লেগে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারন এটাও ক্যান্সারের একটি কারণ পারে।
  • রেক্টাম দিয়ে রক্তপাত হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ এটা ক্যান্সারের খুব সাধারণ একটি লক্ষণ।

ব্লাড ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো কেমিক্যাল। এছাড়াও ভাইরাস, পরিবেশ এর রেডিয়েশন তো আছেই। এছাড়াও এটি জেনেটিক কারণেও হতে পারে। 

>> ভিটামিন বি ১২ এর স্বাস্থ্য উপকারিতা কী কী?

শেষ কথা

ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় যদিও তবে ধারণা করা হয়, পরিবেশের বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ, রাসায়নিক বর্জ্য, ধুমপান, কৃত্রিম রং, কীটনাশক ইত্যাদিই ব্লাড ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির জন্য দায়ী। 

উপরে উল্লেখিত ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ হতে বোঝা যায় যে, ব্লাড ক্যান্সার ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়। ব্লাড ক্যান্সার ছোট বড় সকলেরই হতে পারে। সুতরাং এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে আতংকিত না হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। নিশ্চয় পৃথিবীতে চিকিৎসার ঊর্ধে কোনো ব্যাধি নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top